শুক্রবার, জুন ২১, ২০২৪
হোমজেলাউপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সরকারি চাকরিজীবী আবারও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সরকারি চাকরিজীবী আবারও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক

বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  বিজয়নগর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সরকারি চাকরিজীবী রাসেল খান আবারও বিজয়নগর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ১০ বছর পর গঠিত যুবলীগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আবারও এক সরকারি চাকরিজীবী রাসেল খানকে। তিনি উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে এক যুগ ধরে কর্মরত আছেন। এর আগেও যুবলীগের একই পদে ছিলেন তিনি। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯-এর রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অংশে বলা আছে যে, কোন সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হতে অথবা অন্য কোনো ভাবে যুক্ত হতে পারবেন না অথবা বাংলাদেশ বা বিদেশের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে বা কোনো প্রকারের সহায়তা করতে পারবেন না। গত বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগ এই কমিটি গঠন করেন। এ কমিটিতে মো. রফিকুল ইসলামকে সভাপতি, মুখলেসুর রহমানকে সহ-সভাপতি এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরকারি চাকরিজীবী মো. রাসেল খানকে আবারও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। রাসেল খান বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর একান্ত অনুসারী হিসাবে এলাকায় পরিচয় দিয়ে থাকেন।যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , ২০১৪ সালের ৮ নভেম্বর বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন হয়। সে সময় সম্মেলনে সরকারি চাকরিজীবী রাসেল খানকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। তখন সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় রাসেল খানের
প্রার্থিতা বাতিলের জন্য জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন পদবঞ্চিতরা। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি পদবঞ্চিতদের। উপজেলা যুবলীগের দু’জন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চাকরির পাশাপাশি সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের দলীয় পদে থাকলেও রাজনৈতিক দল পাটির সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। যুবলীগ নেতা হয়েও তিনি নিয়মিত সরকারি দাপ্তরিক কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারাও অনেকটা এবিষয়ে অসহায় প্রকাশ করেন। অভিযোগের বিষয়ে রাসেল খান বলেন, ‘ আমি আবারও সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছি। সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের দোয়ায় রাজনীতি করে যাচ্ছি।’ সরকারি চাকরির
পাশাপাশি রাজনীতিসহ দুটি কাজ কীভাবে
একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন, প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে চাননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি শহরে আসছি। এক ঘণ্টার মধ্যে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবো। ‘এই বলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘ আমাদের যুবলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবী কেউ যদি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চান, তবে সেখানে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে সরকারি দপ্তরের কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না, সেটি আমার জানা নেই।’জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে সরাসরি রাজনীতি দলের কোনো পদ-পদবিতে থাকা যায় না। তার (রাসেল খান) বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।’

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments