সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২
হোমজেলাজেলা পরিষদ নির্বাচন:চেয়ারম্যান প্রার্থী আল মামুন সরকার'র সংবাদ সম্মেলন

জেলা পরিষদ নির্বাচন:চেয়ারম্যান প্রার্থী আল মামুন সরকার’র সংবাদ সম্মেলন

@নিজস্ব প্রতিবেদক:
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদকে একটি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত, জনকল্যাণ ও উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অঙ্গীকার করেন। মতবিনিময় সভায় আল-মামুন সরকার বলেন, তিনি একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সার্বক্ষনিক সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ। সমাজসেবা ও রাজনীতি তাঁর নেশা। ১৯৯৩ সালে বিএনপির শাসনামলে বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছর জনগণের সেবক হয়ে কাজ করেছি। দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা ও রাজনীতি করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা এবং এবং জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন। জেলা পরিষদ দেশের একটি সংবিধিবদ্ধ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অন্যতম শক্তিশালী ধাপ হচ্ছে জেলা পরিষদ।
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০০টি ইউনিয়ন পরিষদ, পাঁচটি পৌরসভা ও নয়টি উপজেলা পরিষদের অভিভাবক হচ্ছে জেলা পরিষদ কিন্তু গত ৫ বছরে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল আলম একদিনও কোন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেননি। এমনি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচী মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস, ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসসহ কোন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীসহ জেলার উন্নয়ন সমন্বয় সভা, আইনশৃঙ্খলা, খাদ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য, চোরাচালান, মাদক প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ বিষয়সহ কোন ধরনের জনকল্যান ও জনহিতকর কর্মসূচীতে তিনি অংশ গ্রহন করেন নি।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রথম আতঙ্কজনক অবস্থাতেও সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জনগনের পাশে দাঁড়াননি, কারো কোন খোঁজ-খবর রাখেননি।
তিনি বলেন, আমার কাজ করার আগ্রহ ও অভিজ্ঞতা আছে। একজন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি মুক্ত মানুষ ও জনকল্যাণে কাজ করতে উৎসাহী সমাজকর্মী হিসেবে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় প্রধান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রতি আস্থা রেখে তাকে এই পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার প্রতিপক্ষ শফিকুল আলম গত জেলা পরিষদ নির্বাচনেও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন।
এ বছর শফিকুল আলম দলের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে লিখিত অঙ্গীকার করেছিলেন যে মনোনয়ন না পেলে তিনি বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করবেন না। কিন্তু এ বছরও তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তিনি প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর বিশাল মোটর সাইকেল র‌্যালি করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
আল-মামুন সরকার বলেন, তিনি বলেন, প্রতীক বরাদ্দের দিন আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও তাদেরকে দলীয় শৃংখলা পরিপন্থী কোন ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আল-মামুন সরকার বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘গ্রাম হবে শহর’ শীর্ষক গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে জেলার সকল সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত স্থানীয় সকল কার্যক্রম সমন্বয় ঘটিয়ে সকল প্রতিনিধির সহযোগীতামূলক একটি “চেইন অব কমান্ড” প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বার্ষিক বাজেট, পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করবেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পরিষদ থেকে সহযোগীতাসহ, শিক্ষা, সংস্কৃতির বিকাশে সহযোগীতা ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানে গ্রাম আদালতকে উৎসাহিত করবেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন খাঁন খোকন, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রেজা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভূইয়া, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়া, জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেনসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গনমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে  চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আল-মামুন সরকার আনারস প্রতিকে ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসক শফিকুল আলম মোটর সাইকেল প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ১৩৯৪জন জনপ্রতিনিধি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments