শনিবার, মে ১৮, ২০২৪
হোমজেলাব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসুদেবে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি এখন সদর হাসপাতালে দত্তক নিতে চায় অনেক নি:সন্তান...

বাসুদেবে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি এখন সদর হাসপাতালে দত্তক নিতে চায় অনেক নি:সন্তান দম্পতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের দুবলা গ্রামে সড়কে পাশ থেকে রোববার সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া ৫ মাস বয়সী ছেলে শিশুটি এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটি সুস্থ আছে বলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। শিশুটির প্রকৃত কোনো অভিভাবক না পাওয়া গেলে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
শিশুটিকে কুড়িয়ে পাওয়া জহিরুল ইসলাম ও পারভীন দম্পতি জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ঢাকা-আগরতলা মহাসড়কের পাশে দুবলা গ্রামের একটি কলামোড়ার ঝোপে শিশুটির কান্না করছিলেন। কান্নার শব্দ শুনে সেখানে এগিয়ে যান কৃষক পরিবারে জহিরুল ইসলাম দম্পতি। সেখানে তারা গিয়ে দেখতে পায় কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় প্রায় ৫ মাস বয়সী একটি ছেলে শিশু কান্না করছে। শীতে কাতর অবস্থায় শিশুটিকে জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন আক্তার উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অবহিত করার পাশপাশি তিনি পুলিশকে শিশুটি সম্পর্কে খবর দেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। শিশুটি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। শিশুটির কোনো অভিভাবক না থাকায় জহিরুল ইসলাম দম্পতি এখন শিশুটিকে দেখাশুনা করছেন। শিশুটির প্রকৃত অভিভাবক না পাওয়া গেলে জহিরুল ইসলাম দম্পতি এই শিশুটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
স্বাবলম্বি কৃষক পরিবারের সদস্য জহিরুল ও তার স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, আমাদের পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। সরকারের পক্ষথেকে শিশুটিকে আমাদের কাছে তুলে দিলে সন্তান হিসেবে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। এছাড়া উপযুক্ত প্রমাণসহ কোনো অভিভাবক যদি ২০ বছর পরে এসে দাবী করেন তাদের সন্তান তাহলে আমি তাদের তাছে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে তুলে দেব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত জ্যেষ্ঠ সেবিকা তাসলিমা আক্তার জানান, শিশুটির শারিরিক অবস্থা এখন ভাল এবং সুস্থ আছে। রোববার রাতে শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। যতটুকু যতœ নেয়া দরকার আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রহিম জানান, শিশুটির এখনো কোনো অভিভাবক পাওয়া যায়নি। ফেসবুকসহ সামাজিকভাবে প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে। শিশুর পরিবারের সন্ধানে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিভাবক না পেলে আদালতের মাধ্যমে শিশুটির পরবর্তী অবস্থান কোথায় হবে এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। এদিকে হাসপাতাল এবং থানা সূত্রে জানা যায়, শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্যে ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন নি:সন্তান দম্পতি নানাভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল এবং থানায় যোগাযোগ রাখছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments