রবিবার, মার্চ ৩, ২০২৪
হোমজেলাবিজয়নগরে নৌকা ডুবির ঘটনায় আদালতে ৫ আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

বিজয়নগরে নৌকা ডুবির ঘটনায় আদালতে ৫ আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নৌকা নৌকাডুবিতে ২৩জনের নিহতের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৫জন তাদের নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরমধ্যে নৌপথের ইজারাদার আদালতে জানিয়েছেন, এই নৌপথের কোন নৌকার রুট পারমিট নেই। রুট পারমিট নিলে বয়া, লাইফ জ্যাকেট কিনে নৌকায় রাখতে হয়। এই পথের অনুমোদন থাকলে এবং বয়া, লাইফ জ্যাকেট থাকলে মানুষ মারা যেত না। এছাড়া ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী নৌকাটি দ্রুতগতিতে ছিল।
আদালতে ৫আসামির জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাসান।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাসান জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদাত রোববার (৫ আগস্ট) বিকেলে ৫আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।  উপজেলার চম্পকনগর-আনন্দবাজার নৌপথের প্রতিবছর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে নিলাম ডেকে এক বছরের জন্য চম্পকনগর ঘাটের ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ডাক ওঠে। নৌকাঘাটের ডাকের টাকা মসজিদে খরচ করা হয়।প্রায় আট বছর যাবত এই ঘাটের ইজারা পাচ্ছেন মিষ্ঠু মিয়া। ওই ঘাট থেকে তাঁর একটি যাত্রীবাহী নৌকাও চলাচল করে। চম্পকনগর ঘাট থেকে আনন্দবাজার ঘাট পর্যন্ত প্রতিদিন ১৪টি ইঞ্জিনচালিত যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল করে।

নৌকা ডুবির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মিষ্ঠু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, নৌপথের সরকারের কোনো অনুমতি নেই। এই রুটে চলাচলকারি কোন নৌকায় লাইফ জ্যাকেট,

বয়া বা অন্যকিছু নেই। রুট পারমিট নিলে বয়া,

লাইফ জ্যাকেট থাকতে হয়। বয়া, লাইফ জ্যাকেট থাকলে মানুষ মারা যেত না। দুর্ঘটনায় পড়া যাত্রীবাহী নৌকার মালিক ও দুর্ঘটনার সময় যাঁরা নৌকা চালাচ্ছিলেন, তাঁদের নাম ও ঠিকানাও জানান ঘাটের ইজারাদার মিষ্ঠু মিয়া।

গ্রেফতার হওয়া বালু বোঝাই ট্রলারের দুই মাঝি, সহযোগী ও মালিকেরা তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, যাত্রীবাহী নৌকাটি দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। বাঁ দিকে মোড় নেওয়ায় ধাক্কা লেগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নৌকাডুবির ঘটনার পর দিন বিজয়নগরের চম্পকনগরের সেলিম মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী  সাতজনের নামে মামলা দায়ের করেন। পরে এই মামলায় ধাক্কা দেওয়া বালুবাহী বাল্কহেডের মাঝি,  তাঁর দুই সহযোগী, বাল্কহেডের মালিক এবং চম্পকনগর নৌকা ঘাটের ইজারাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকী দুইজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২৭ আগস্ট বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার লইস্কা বিলে বালু বোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় নৌকাডুবে যায়। এই ঘটনায় ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments