মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৩
হোমজাতীয়ব্যারিস্টার মওদুদ আর নেই

ব্যারিস্টার মওদুদ আর নেই

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ আর নেই ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) । আজ (১৬মার্চ) সিঙ্গাপুরের হাসপাতাল মাউন্ট এলিজাবেথে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে উনার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত প্রেস উইং এর সদস্য শায়রুল কবির খাঁন মওদুদ আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মওদুদ আহমেদ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৬টায় মৃত্যু বরণ করেন।

চিকিৎসার জন্য গত মাসে (১ ফেব্রুয়ারি) মওদুদ আহমেদকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তার এতদিন চিকিৎসা চলছিল। ফুসফুসে পানি জমার কারণে অবস্থার অবনতি হলে গত ৯ মার্চ তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। তার কিডনির ডায়ালাইসিসও শুরু করা হয়।

মওদুদ আহমদের পাশে তার সহধর্মিণী হাসনা মওদুদও ছিলেন।

এর আগে ৩০ ডিসেম্বর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস ও বুকে ব্যথা অনুভব করলে মওদুদ আহমদকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ৭ জানুয়ারি তার হৃদযন্ত্রে স্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়।

মওদুদ আহমদের মরদেহ কবে দেশে আনা হবে- তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে শায়রুল কবির খান বলেন, মওদুদ আহমদের পরিবার এবং বিএনপির নেতারা আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করবেন, কবে মরদেহ দেশে আনা হবে। কোথায় তার দাফন করা হবে, সেটিও নির্ভর করছে পরিবারের ওপর।

এদিকে, প্রবীণ এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে মওদুদ আহমদ চতুর্থ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে সম্মান পাস করে ব্রিটেনের লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। লন্ডনে পড়াশোনা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং হাইকোর্টে ওকালতি শুরু করেন। তিনি ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়েও কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খান কর্তৃক আহূত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন।

১৯৭৭-৭৯ সালে তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৭৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী-৬ আসন) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেবার তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমান নিহত হন এবং এক বছরের ভেতর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে মওদুদ আহমদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এক বছর পর ১৯৮৬-তে তাকে আবার উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮৯ সালে তাকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এরশাদ তাকে উপ-রাষ্ট্রপতি করেন।

৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকার জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালে মওদুদ আহমদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালেও তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাঁচবার মওদুদ আহমদ নোয়াখালী-৫ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও জিয়াউর রহমানকে বিএনপি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন মওদুদ আহমদ। দলটির তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। মওদুদ আহমদ এরশাদের জাতীয় পার্টির সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনি সর্বশেষ ২০০৯ সালে খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৭ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।

২০১৫ সালে মওদুদ আহমেদের একমাত্র ছেলে আমান মমতাজ মওদুদ মারা যান। আর মওদুদ আহমদের একমাত্র মেয়ে বর্তমানে নরওয়তে থাকেন।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments