সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২
হোমজেলাব্রাহ্মণবাড়িয়াব্রাহ্মণবাড়িয়ার হামলায় বিএনপি-জামায়াত এবং হেফাজত জড়িত : হানিফ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হামলায় বিএনপি-জামায়াত এবং হেফাজত জড়িত : হানিফ

হেফাজতে ইসলামের মতো ধর্মব্যবসায়ী দলের ওপর ভর করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। বুধবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি স্থাপনাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে হেফাজতকর্মীরা। হেফাজতকর্মীরা কয়েকজন সাংবাদিকেও ওপরও হামলা চালায় সেদিন।
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলব যারা এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে, স্বাধীন রাষ্ট্রে এই ধরণের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করা যাবে না। ১৯৭১ সালে যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল, একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধ্বংসাত্মক কার্যাকলাপ করা হয়েছে। এগুলো কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এবার আশ্বস্ত করছি, এবার আমরা একটা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেব’। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তা-ব পূর্পপরিকল্পিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন একটা সময় স্বাধীনতার ৫০ বছরের পূর্তি হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে আলোচিত উন্নয়ন-গ্রগতির কারণে। সেই সময়ে আমাদের সুবর্ণ জয়ন্তীর কালেমা লেপনের জন্য পরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত এবং হেফাজত মিলে এই কাজটি করেছে। একটা নাশকতামূলক কর্মকা- করে কালেমা লেপন করার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘হেফাজতের যারা এখানে আছেন, তাদের কাছে তো গানপাউডার থাকার কথা না। এই গানপাউডারের ব্যবহার আমরা ১৯৭১ সালে দেখেছি। আর দেখেছি জামায়াতের বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকা-ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে এখন আবার নাশকতামূলক কর্মকা-ে গানপাউডারের ব্যবহার দেখে পরিস্কার হয়ে গেছে, হেফাজতের কাঁধে ভর করেছে জামায়াত এবং বিএনপি। তারাই এ সন্ত্রাসী কর্মকা- করেছে’।
হানিফ বলেন, ‘গত মার্চ মাসের শুরু থেকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া ঠিক হবে না, বাধা দেবে- এধরণের বক্তব্য যেসব ধর্মব্যবসায়ী দল দিচ্ছে, তাদেরকে উস্কে দিয়েছে বিএনপি। বিএনপির নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন- ২০২১ সালের মধ্যে সরকার পতন হবে। তারা কিসের ওপরে ভিত্তি করে সরকার পতনের আশা প্রকাশ করছে? দেশে তো বিএনপির সাংগঠনিকভাবে এমন কোনো তৎপরতা নেই, যেটা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পারে। ওদের নিজেদের সক্ষমতা নেই, ওরা এখন ধর্মব্যবসায়ী দল হেফাজত ও জামায়াতের ওপর ভর করেছে। ভর করেছে বলেই তারা এ ধরণের কথা (সরকার পতন) বলছে’।
এ সময় মাহবুব উল আলম হানিফের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মঈন উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো. আলআমিনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মাহবুব উল আলম হানিফ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল নিয়ে হেফাজত কর্মীদের দেওয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments