বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৪
হোমমতামতশিক্ষা দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই:শাহরোখ শামিল তমাল

শিক্ষা দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই:শাহরোখ শামিল তমাল

  •  আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা দখলের পরে, তৎকালীন শিক্ষা সচিব এসএম শরীফ কে চেয়ারম্যান করে, ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করে, যা শরিফ কমিশন নামে পরিচিতি লাভ করে। সেই কমিশন ১৯৫৯ সালের আগস্ট মাসে একটি শিক্ষা রিপোর্ট  প্রণয়ন করে। কমিশনের সুপারিশ ছিলঃ

১. উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করিতে হইবে (পৃষ্ঠা নং ৫১৯)
২. শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয় ( পৃষ্ঠা নং ৩৯৬)
৩. শিল্পে মূলধন বিনিয়োগকে আমরা যে নজরে দেখি, সেই নজরে শিক্ষা বাবদ অর্থ ব্যয় কে দেখার যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয়। (পৃষ্ঠা নং ৩৯৫)
৪. অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুল এর নামমাত্র বেতনের মাধ্যমিক স্কুল স্থাপনের জন্য সরকারের উপর নির্ভর করাই জনগণের রীতি, তাহাদিগকে উপলব্ধি করিতে হইবে অবৈতনিক শিক্ষা ধারণা বস্তুত কল্পনামাত্র। (পৃষ্ঠা নং ৩৯৮)
৫. আমাদের জাতীয় জীবনে ইংরেজির বিরাট প্রয়োজনীয়তা আছে এবং সেজন্য ষষ্ঠ শ্রেণি হইতে ডিগ্রী পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক পাঠ্য হিসেবে শিক্ষা দিতে হইবে। (পৃষ্ঠা নং-৩৪৯)
একই সাথে, রিপোর্টে বাংলার স্থলে রোমান বর্ণমালা প্রয়োগের জন্য কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এর পরিবর্তে, পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ও বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে, নজরদারির প্রস্তাব রাখা হয়।

শরিফ কমিশনের এই গনবিরোধী, স্বৈরাচারী বৈষম্যমূলক লক্ষ্য ও স্বার্থের প্রতিফলিত শিক্ষানীতির সুপারিশ আইয়ুব সরকার ৬২ সালে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল ছাত্রসমাজ এই কমিশনের সুপারিশ কে, প্রতিক্রিয়াশীল, গণবিরোধী, অবৈজ্ঞানিক সাম্প্রদায়িক এবং সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থরক্ষার, শিক্ষা সংকোচন নীতি হিসেবে চিহ্নিত করে, যা “টাকা যার শিক্ষা তার”এই নীতির নামান্তর। ইতোপূর্বে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন চলমান ছিল। সেই মুহূর্তে, এই গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষানীতি ছাত্র সমাজকে দূর্বার আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে। সারাদেশে গণবিরোধী জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিল করে, গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়নের দাবিতে সারাদেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। ১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ছাত্রদের আন্দোলনে, সামরিক সরকার ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আন্দোলন দমন করার জন্য, মামলা হামলা গ্রেফতার সহ নানা ধরনের নিপীড়ন নির্যাতন চালাতে থাকে। ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারাদেশে হরতাল ঘোষণা করে। ঐদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও হরতালের সমর্থনে পিকেটিং চলতে থাকে। সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতন ছাত্র জনতার আন্দোলন দমাতে পারেনি। ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই ছাত্ররা পিকেটিং শুরু করে সকাল ৯ টা বাজতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এমন সবার খবর আসে, নবাবপুরে মিছিলে গুলি হয়েছে, এতে কয়েকজন শহীদ হয়েছেন। তৎক্ষণাৎ জমায়েতে অগ্নিশিখার ঢেউ বয়ে যায়, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, কাজী জাফর আহমেদ, সিরাজুল আলম খান, মহিউদ্দিন আহমেদ, আইউব রেজা চৌধুরী, রেজা আলীর নেতৃত্বে মিছিল জঙ্গি রূপ ধারণ করে আব্দুল গনি রোডে প্রবেশ করলে পেছন থেকে পুলিশ মিছিলে গুলিবর্ষণ করে। এতে শহীদ হন নবকুমার স্কুলের ছাত্র বাবুল, ইপিআরটিসির সরকারি বাসের কন্ডাক্টর মোস্তফা ও গৃহকর্মী ওয়াজিউল্লাহ। আরো অনেকে আহত হন, পুলিশ সারাদেশেই মিছিলে গুলি এবং হামলা চালায়। টঙ্গীতেও ছাত্র শ্রমিক সমাবেশে হামলা চালিয়ে হত্যাকান্ড ঘটায়। এদিন মিছিলে সকল পেশা ও ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে নৌকার মাঝিরা, বৈঠা হাতে মিছিল নিয়ে আসেন।

১৭ ই সেপ্টেম্বর এর ঘটনা ছাত্র আন্দোলনকে আরো বেগবান করে তোলে।
২৪ সেপ্টেম্বর পল্টনে ছাত্র সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১৭ ই সেপ্টেম্বরকে “শিক্ষা দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আন্দোলন দমনে ব্যর্থ হয়ে সরকার শরিফ কমিশন জাতীয় শিক্ষানীতি স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের  পরাস্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও একটি গণমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এমনকি, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরেও শহীদদের আত্মদানের ওই স্থানে ছিল না কোন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, ছাত্ররা রাস্তার উপর ফুল দিয়ে স্মরণ করতো শিক্ষা আন্দোলনের শহীদদের। সাম্প্রতি হাই কোর্ট মোড়ে শিক্ষা ভবনের বিপরীতের সড়কদ্বীপে নির্মিত হয়েছে শিক্ষা অধিকার চত্বর।
যদিও শিক্ষা দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায় করা এখনো সম্ভব হয়নি।

স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রদের বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল।
স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭২ সালে, ড. কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন মুক্তিযুদ্ধকালীন শিক্ষা দর্শন প্রতিফলিত হয়েছিল, কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও বলা যায় ওই শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হলে আমাদের শিক্ষা কাঠামোতে অগ্রগতির সূচনা ঘটতো।
কিন্তু, ৭৫’র রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীতে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া এবং এরশাদ সাম্প্রদায়িকীকরণের সূচনা করে। স্বৈরশাসক এরশাদ আমলে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমাদের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কবর রচনা করে।
পরবর্তীতে গণতান্ত্রের নামে সরকারে যারাই ক্ষমতায় ছিল, তারা কেউই শিক্ষার বৈষম্য দূর করতে সচেষ্ট ছিল না! বরং সামরিক শাসকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, শিক্ষাকে চরম সাম্প্রদায়িকীকরণ এবং বাণিজ্যিকীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়। যা, মজিদ খানের শিক্ষা রিপোর্ট, ড. মফিজ উদ্দিন আহমেদের শিক্ষা রিপোর্ট, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞার শিক্ষা রিপোর্ট, ড. শামসুল হকের শিক্ষা রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা যায়। বাজেট উপস্থাপনের সময়, গৎবাঁধা বুলি হিসেবে, শিক্ষা খাতকে সরকারি ব্যয় বরাদ্দের সর্বোচ্চ আসনটি প্রদানের ঘোষণা উচ্চারিত হয়ে চলছে। তবুও সত্য হলো, শিক্ষাখাতে প্রকৃত বরাদ্দ অপ্রতুল। অন্যদিকে, শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে বৈষম্য সাম্প্রদায়িকতা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের লালন ক্ষেত্রে পর্যবসিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার জিডিপির শতাংশ হিসেবে শিক্ষা খাতে ব্যয়ে, বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নস্তরে। UNESCO যেখানে জিডিপির ৮ % শিক্ষার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অঙ্গীকারাবদ্ধ করেছে। সেখানে, বাংলাদেশ অন্যতম স্বাক্ষরকারী সদস্য দেশ হিসেবে সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটে মাত্র ২.২ % শিক্ষাখাতে বরাদ্দ রেখেছে! শিক্ষাক্ষেত্রে সীমাহীন বৈষম্য আজও বিদ্যমান। শিক্ষাব্যবস্থার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সমস্ত পাঠ্যতালিকা তৈরি হয়, ধনিকশ্রেণীর প্রয়োজনে। একেবারে, প্রাথমিক স্তর থেকেই সুকৌশলে শিশুদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় অবৈজ্ঞানিক, প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণা। আমাদের দেশে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যা শেখানো হয় তার অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয়! আমরা যা শিখি, তার ব্যবহার বা প্রায়োগিক বাস্তবতা খুবই কম। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আজ বহুধা বিভক্ত, বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বৃহত্তম অংশের প্রবেশাধিকার সংকুচিত এবং শর্তসাপেক্ষ! ব্যাপক মানুষ শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত এবং গ্রামের শিশুরা থেকে যাচ্ছে অবহেলিত।
অন্যদিকে, শহুরে অর্থ প্রতিপত্তিশালীদের সন্তানরা পাচ্ছে ভাল প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ এবং একশ্রেণীর সন্তানদের লেখাপড়ায় ব্যয় হচ্ছে বিশাল অঙ্কের টাকা।
সাধারণ শিক্ষা যেখানে বিপর্যস্ত, সেখানে তার পাশাপাশি রয়েছে কিন্ডারগার্টেন, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল প্রভৃতি।
শিক্ষা ব্যবস্থায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বৃহত্তর অংশ মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা এবং উৎসাহিত করা হচ্ছে, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মাদ্রাসা শিক্ষাকে। যেখানে বিজ্ঞান বিবর্জিত ও পশ্চাদপদ শিক্ষা বিতরণ করা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পই শুধু ছড়ানো হয় না, তাদের চোখ রাঙানিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দাবীদার সরকার পাঠ্য বইয়ের সিলেবাস পরিবর্তন করে সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষকতা করতেও দ্বিধাবোধ করে না! অথচ মাদ্রাসা শিক্ষাকে মুল ধারায় ফিরিয়ে আনার কোন বিকল্প নেই।
আবার দেখা যায়, সামান্য সংখ্যক ক্যাডেট কলেজের ছাত্রদের পিছনে সরকারি ব্যয়, সাধারণ স্কুলের বছরের সরকারি ব্যয়ের ২০ গুণ বেশি!
৯০’র দশকে সরকারি উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণ এর যুক্তি দেখিয়ে, বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়। আজ তা বাণিজ্যিকীকরণের সাধারণ সীমা অতিক্রম করে, পুঁজিবাজারের একটি সম্প্রসারিত ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান বাদে, বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষাকে কেনাবেচার পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। টাকা হলে যেমন বাজার থেকে পণ্য ক্রয় করা যায়, তেমনি টাকা থাকলে শিক্ষা ক্রয় করা যাবে। “টাকা যার শিক্ষা তার” এই নীতির সার্থক প্রয়োগ ঘটেছে। কিন্তু, গরিব মেহনতী ও তার সন্তানদের শিক্ষার কথা চিন্তা করা হয়নি। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আরেকটি সমস্যা এবং দুর্ভোগের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
পাশাপাশি প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষার সকল স্তরে সীমাহীন বৈষম্য প্রকট ভাবে বিরাজমান।
তবে, “জাতীয় শিক্ষানীতি – ২০১০” এ নানা ধরনের দূর্বলতা থাকা সত্ত্বেও মন্দের ভালো হিসেবে ছাত্রসমাজ গ্রহণ করেছে। কারণ সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প মুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে পরিচালিত করার চেষ্টা রয়েছে, কিন্তু বাণিজ্যিকীকরণের লাগাম টেনে ধরা হয়নি। তার পরেও “জাতীয় শিক্ষানীতি – ২০১০” দ্রুত বাস্তবায়নের এই মুহূর্তে কোনো বিকল্প নেই, এ ক্ষেত্রে কোন ধরনের কালক্ষেপণ কাম্য নয়।

বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত! শিক্ষাব্যবস্থায় এর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায়,প্রায় দের বছর শিক্ষা কার্যক্রম থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত। সরকার প্রযুক্তির উপর গুরুত্ব  দিয়েছে এবং কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন পাঠদান চলমান রেখেছে, তবে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে দেশে ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য করতে হবে, বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা ও প্রযুক্তি সহায়তার জন্য সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।  করোনাকালীন সময় শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় নিয়ে এসে মেস ভাড়া, বেতন ও সেমিস্টার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে মওকুফ করে , গ্রাম ও শহরের মাঝে যে শিক্ষা বৈষম্য তৈরী হয়েছে তা দূর করতে হবে, একইসাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রতিও মানবিক হওয়া প্রয়োজন। আর এ দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই পালন করতে হবে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে, একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোও দ্রুত খুলে দেয়ার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। যদিও শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠন গুলো বেশ কিছুদিন পূর্ব থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে। সরকারের টিকা কার্যক্রম এবং জনগনের সচেতনতার কারনে কভিড-১৯ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর পরে আমাদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি থাকতে হবে।

৬০’র দশকে, যে মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ছাত্রসমাজ ঐতিহাসিক শিক্ষা আন্দোলন করেছিল এবং ছাত্ররা জীবন দিয়েছিল, তা আজও অর্জিত হয়নি। ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে হানাদার পাকিস্তানি দের আমরা পরাজিত করেছি, এবছরই আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করেছি কিন্তু, এখনো মহান শিক্ষা আন্দোলনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায় করা এবং শিক্ষার জাতীয়করণ নিশ্চিত করে বৈষম্য দূর করা যায়নি। তাই আমাদের লড়াইও শেষ হয়নি! সার্বজনীন, বৈষম্যহীন বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, সর্বোপরি জনগণতান্ত্রিক শিক্ষা এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিনির্মাণের লড়াই সংগ্রামে বৃহত্তর ছাত্র ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

লেখকঃ প্রাক্তন ছাত্র মৈত্রী নেতা।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments