শনিবার, মে ১৮, ২০২৪
হোমজেলাব্রাহ্মণবাড়িয়াহেফাজতের তান্ডবের সময় প্রশাসন ও পুলিশ নিস্ক্রিয় ছিলো, সংবাদ সম্মেলন করে জেলা...

হেফাজতের তান্ডবের সময় প্রশাসন ও পুলিশ নিস্ক্রিয় ছিলো, সংবাদ সম্মেলন করে জেলা আওয়ামী লীগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী, হেফাজতের হরতালের সময় সকল ধ্বংসলীলার দায় হেফাজতকেই নিতে হবে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত সমর্থকদের নারকীয় তান্ডব ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় শক্তিশালী বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেছেন জেলা আওয়ামীলীগ। গত সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ দাবী করেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন,২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারির মাদ্রাসা ছাত্রদের তান্ডবের পরও আমরা জোরালোভাবে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেছিলাম। ঐসময় যদি অপরাদীদের আইনের আওতায় আনা হতো তবে আজ এমন ভয়াবহ ধ্বংসলীলা দেখতে হতো না। তিনি জানান, গত ২৬ মার্চ ও ২৮ মার্চ হেফাজত সমর্থকদের তান্ডবের সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রহস্যজনক কারণে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় ছিলো। ঘটনার সময় সর্বাত্মকভাবে প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। থানার ৩শ গজ দূরে পৌরসভা ও হাতের নাগালের মধ্যে সুর স¤্রাট আলাউদ্দিন খা পৌর মিলনায়তন দিনভর জ্বলেছে কেউ রক্ষা করতে আসেনি। তিনি প্রশাসন ও পুলিশের নিস্ক্রিয়তার বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় আনারও দাবী জানান। তিনি আরো জানান, রক্তপাত এড়াতেই আমরা মাঠে নামিনি, প্রশাসন ও পুলিশের উপর আস্থা রেখেছিলাম। তিনি বলেন, হেফাজতের নামে হরতাল ডাকা হয়েছিলো তাই সকল ধ্বংসের দায় হেফাজতকেই নিতে হবে। ফুলের বাগান,বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, রেলস্টেশন, সরকারি সকল অফিস, গণগ্রন্থাগার, সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান, পৌরসভার মতো নিরপরাধ প্রতিষ্ঠান জ্বালায় যারা তারা মানুষ নয় দানব।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, আমার বাড়ি-অফিস-শ্বশুর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমার সারাজীবনের সকল কাগজ-নথিপত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। বারবার অনুরোধ করেও প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তা পাইনি। ২৮ মার্চ সারাদিন এমনকি রাত পর্যন্ত প্রশাসন বা পুলিশের কেউ ধ্বংসস্তুপ দেখতেও আসেনি। প্রশাসন ও পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পৌর নির্বাচনে পরাজিত বিএনপির মেয়র প্রার্থী জহিরুল হক খোকন ও আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক ভূঞার সমর্থকরাও হেফাজতের হরতালের সুযোগ নিয়ে জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুরে অংশ নিয়েছে। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৌরভবন, সুর স¤্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা সঙ্গীতাঙ্গন, আলাউদ্দিন খা পৌর মিলনায়তন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, সরকারের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উন্নয়ন মেলা, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকারের মুন্সেফপাড়ার বাড়ি, ভাষা চত্বরের অফিস, বাগানবাড়ির শ্বশুর বাড়ি,জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভনের বাড়ি, ছাত্রলীগ নেতা জেনির মার্কেট, সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে পুলিশ ফাঁড়ি, সদর উপজেলা ভূমি অফিস আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমী, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, পুলিশ লাইন, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান মন্দিন কালিবাড়ি,স্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস প্রধান কার্যালয়, পৌর মেয়রের বাসভবন, জেলা শিশু একাডেমীর কয়েকটি কক্ষ, সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ, আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-আহবায়ক আবু নাসেরের বাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান।
প্রেসব্রিফিংয়ের আগে ও পরে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ হেফাজত সমর্থকদের আগুনে পুড়ে যাওয়া ও ভাংচুর-লুটপাটের শিকার সবগুলি প্রতিষ্ঠান,বাড়ি ও কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের শান্তনা প্রদান করেন।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন, মুজিবুর রহমান বাবুল, যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, শ্রম সম্পাদক শেখ মো. মহসিন, কার্যকরী সদস্য মাহমুদুর রহমান জগলু, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments