সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২
হোমজেলা১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান আর ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান----ওবায়দুল কাদের...

১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান আর ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান—-ওবায়দুল কাদের এমপি

@নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপি এখনই মনোনয়ন বাণিজ্য শুরু করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দীর্ঘ আট বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখনই শুরু হয়ে গেছে মনোনয়ন বাণিজ্য। ফরিদপুরে আজ টাকা উড়ছে,মির্জা ফখরুল  কাকে কাকে মনোনয়ন দেবে,কাকে মন্ত্রী বানাবে এসব কথা বলে বস্তায় বস্তায় টাকা নিচ্ছে। তারেক রহমান বস্তায় বস্তায় টাকা সুইস ব্যাংকে পাঠিয়েছে। এফবিআই এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছে। এবার ডিসেম্বওে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাদের এই বাণিজ্যের বিরুদ্ধে খেলা হবে, খেলা হবে আন্দোলনে, খেলা হবে নির্বাচনে। বিএনপি ফাউল করলে তাদের লাল কার্ড দেখাবে জনগণ। তিনি আরও বলেন, এই বাংলার ইতিহাস বীরের ইতিহাস, বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। যদি জিয়াউর রহমান হত্যাকারীদের সঙ্গে না থাকতেন, তাহলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সাহস হতো না। জিয়াউর রহমান খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন। এই জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করতে আইন সংশোধন করেছিলেন। ১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান, আর ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কারণে যারা মেজর থেকে মেজর জেনারেল হয়েছেন তারাই বঙ্গবন্ধুর সাথে বিশ^াসঘাতকতা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে বিশ^াসঘাতকতা করা জিয়াউর রহমান ও খালেদ মোশারফের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। জেনালের শফিউল্লাহ জীবিত থাকলেও জীবন্মৃত,মানুষ তাকে ঘৃণা করে। শেখ সেলিম তারেক রহমান দেশে আসলে গণপিটুনির শিকার হবেন।
এছাড়া এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাড. কামরুল ইসলাম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর, কেন্দ্রীয় সদস্য পারভীন সুলতানা কল্পনা ও ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম (অব.) এমপি।
সম্মেলনে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন অ্যারোমা দত্ত এমপি,এবাদুল করিম বুলবুল এমপি,বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম এমপি,জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন,পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবীর,যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী,সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও,বিজয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা মুকাঈ আলী,নবীনগর পৌর মেয়র এড.শিবশংকর দাস,নাসিরনগর উপজেলা চেয়ারম্যান রাফি উদ্দিন প্রমূখ।
সম্মেলনের শেষদিকে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি সভাপতি পদে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপিকে সভাপতি,যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকারকে সাধারণ সম্পাদক,সাবেক মেয়র হেলাল উদ্দিনকে ১ নং সহসভাপতি,মো.হেলাল উদ্দিনকে সহসভাপতি ও মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টুকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নাম ঘোষণা করেন। এসময় তিনি বলেন ঘোষিত ৫ জন নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে সাথে নিয়ে আগামী একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন।
সম্মেলন দুপুর আড়াইটার পর শুরু হলেও সকাল ১১ টার পর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী বাদ্য-বাজনা,ব্যানার ফেস্টুন সহ সম্মেলন যোগ দিতে আসেন। দুপুর ২ টার মধ্যেই পুরো স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ ব্যাপক ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। গত এক সপ্তাহ থেকে জেলা শহর সেজে উঠে ব্যানার-ফেস্টুন ও গেইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments